দেলোয়ার হোসেন, স্টাফ রিপোটার

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। সুদূর রাজশাহী থেকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এসে টানা আট বছর ধরে নিয়মিত খেজুরের রস সংগ্রহ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন মুকুল হোসেন।
নিপুণ হাতে গাছ চাঁছাছোলা আর পরিচর্যা করে তিনি শুধু নিজের ভাগ্য বদলাননি, টিকিয়ে রেখেছেন বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যও। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তুলশিপুর গ্রামের বাসিন্দা মুকুল হোসেন।
জীবিকার টানে একসময় তিনি রাজবাড়ী বা ফরিদপুর অঞ্চলে শ্রমবাজারে কাজ করতে আসেন। পরে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কৃষ্ণদিয়া গ্রামের রফিক শেখের সহযোগিতায় তিনি খেজুর গাছ পরিচর্যার পেশার সঙ্গে যুক্ত হন। সেই থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। শীত মৌসুমে গৃহস্থদের নির্দিষ্ট শর্তে গুড় দেওয়ার চুক্তিতে তিনি এই পেশায় জড়িয়ে পড়েন।
সরেজমিনে জানা যায়, প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই খেজুর গাছ পরিচর্যা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মুকুল। ১০ থেকে ১৫টি গাছ প্রস্তুত করা, হাঁড়ি বাঁধা এবং ভোরে সেই হাঁড়ি থেকে রস নামানোই তার নিত্যদিনের রুটিন। মুকুল হোসেন জানান, গত বছর তিনি ছয় কুড়ি (১২০টি) গাছ পরিচর্যা করে প্রায়দেড় লাখ টাকা আয় করেছিলেন।
এ বছর নিজের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ৭ থেকে ৮ কুড়ি গাছ পরিচর্যার পরিকল্পনা করেছেন এবং আশা করছেন তার প্রায় দুই লাখ টাকা আয় হবে। তার সংগৃহীত কাঁচা রসের কদর অনেক বেশি। ভোরবেলা থেকেই স্থানীয় ক্রেতারা ছাড়াও বাইক বা প্রাইভেটকারে এসে অনেকে কাঁচা রস সংগ্রহ করেন, যা পরে বিদেশেও পাঠানো হয়।
কৃষ্ণদিয়া গ্রামের গৃহস্থ মতি শেখ বলেন, শীতের সকালে সুস্বাদু কাঁচা রস এবং এ থেকে তৈরি খাঁটি গুড়-পাটালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে মুকুল হোসেনের মতো দক্ষ গাছিরা দারুণ ভূমিকা রাখছেন।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এ উপজেলার উৎপাদিত গুড়ের মান খুবই ভালো হওয়ায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শীত মৌসুম শুরু না হতেই গাছিরা গাছ প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
গ্রামীণ এই ঐতিহ্য রক্ষায় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।


