নিজস্ব প্রতিবেদক
আইন পেশার পাশাপাশি আইনজীবীদের জন্য সম্পূরক কর্মসংস্থানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটা কোম্পানির একজন করে বাধ্যতামূলক অডিটর লাগে অ্যাকাউন্টস দেখার জন্য।
বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছি, প্রত্যেকটা কোম্পানির একজন করে বাধ্যতামূলক আইনজীবী থাকতে হবে। বলেছি, কোম্পানি আইনের পরিবর্তন করে নেন। আমি চেক করে দেব।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর পুরান ঢাকায় নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে ঢাকা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আইনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের চিন্তা আমরা করছি কিন্তু আপনাদেরকে চিন্তা করতে হবে জ্ঞান কীভাবে অর্জন করবেন। আপনি কীভাবে জ্ঞানে গরিমায় মেধা প্রজ্ঞায় শিক্ষা দীক্ষায় মানে মননে নিজেকে ঋদ্ধ করবেন।
আমাদের লক্ষ্য এই পেশাকে কীভাবে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই আইন মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করেছি, আইনজীবীরা প্রশিক্ষণ পায় না, আপনাদের থেকে শুরু করে ৮০ হাজার আইনজীবীর জন্য টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত, রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত যত আইনজীবী আছেন তাদের প্রশিক্ষণের জন্য এ বছরে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছি। এটা আমাদের অঙ্গীকার এই পেশাকে আমরা আরও সামনে নিতে চাই।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা এই পেশায় এসেছেন তাদের বলব, ছোট বারান্দার আইনজীবী হওয়ার চেষ্টা করবেন না। সবসময় বড় বারান্দার আইনজীবী হিসেবে থাকবেন। ছোট বারান্দা হল জজ সাহেবদের বারান্দা। ওই বারান্দাতে ঢুকে জজ সাহেবের সাথে লেনদেনের দিকে যাবেন না।
আইনজীবীরা সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইনজীবী সুরক্ষা আইন অবশ্যই চাই। কিন্তু সেই সুরক্ষা আইন করার আগে আপনারা দাবি তোলেন বার কাউন্সিলের আইনজীবীদের প্রফেশনাল মিসকন্ডাক্টের জন্য যে ট্রাইব্যুনালগুলো আছে, সেই ট্রাইব্যুনালগুলোকে আরও গতিশীল করতে হবে। দু-একজন আইনজীবীর কারণে আইনজীবী সমাজের বিরুদ্ধে একটি নেতিবাচক ধারণা সমাজে তৈরি হয়।
তিনি বলেন, দু-একজনের কারণে আইনজীবীদের কাছে কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায় না, মেয়ে তো দূরের কথা। সবার আগে এই জায়গাটা চিন্তা করেন, আমাদের বার কাউন্সিলের ট্রাইব্যুনালকে কীভাবে শক্তিশালী করতে পারি। যদি আমরা সেটা করতে পারি, সমাজ থেকেই দাবি উঠে আসবে আইনজীবীদের সুরক্ষা প্রয়োজন।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ সাধারণ সম্পাদক ইলতুৎমিশ সওদাগর এ্যানির সঞ্চালনায় ও অফিস সেক্রেটারি আবজাল হোসাইন মৃধার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন, ঢাকার ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ইকবাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কালাম খান প্রমুখ।


