ছাতকে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ আড়াল করতে পিতা কর্তৃক কন্যা ধর্ষনের অপপ্রচারের অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: 

সুনামগঞ্জের ছাতকে যৌতুক দাবি ও স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পিতা ও কন্যাকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এআই দিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে ফেইসবুকে পিতা কর্তৃক কন্যা ধর্ষনের মত জগন্য অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী মাছুরা বেগম সামিয়া ও তার মা মিরজাহান বেগমের অভিযোগ, যৌতুক হিসেবে ১০ লাখ টাকা অথবা একটি স্টিলের নৌকা দিতে না পারায় সামিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন স্বামী সানার হোসেন।

এ ঘটনায় স্বামী সানার হোসেন ও দেবর আনোয়ার হোসেনকে অভিযুক্ত করে গত ৫অক্টোবর ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সামিয়ার মা মিরজাহান বেগম।সামিয়ার বাবা রাজা মিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কোচবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন বালু ব্যবসায়ী।

তার মেয়ের স্বামী সানার হোসেন একই গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে সামিয়ার সঙ্গে সানার হোসেনের বিয়ে হয়।

সামিয়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় বিয়ের পর থেকে রাজা মিয়া মেয়ের সংসারে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছিলেন। তবে স্বামী সানার হোসেন ১০ লাখ টাকা অথবা একটি স্টিলের নৌকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দাবিকৃত যৌতুক দিতে না পারায় সামিয়াকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হয় বলে পরিবারের দাবি।সম্প্রতি নির্যাতনের শিকার হয়ে সামিয়া বিষয়টি তার বাবাকে জানান।

অসুস্থ মেয়েকে দেখতে গত ২৮অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাজা মিয়া মেয়ের বাড়িতে গেলে তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে অনৈতিকতার অভিযোগ তোলেন সানার হোসেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করেন।

বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।এরপর গত ২৯অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ প্রায় শতাধিক লোক রাজা মিয়ার বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় তার মেয়েকে মারধর এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।পরিবারটির অভিযোগ, এসব ঘটনার পর থেকেই পিতা ও কন্যাকে জড়িয়ে আপত্তিকর ফটোকার্ড তৈরি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ফটোকার্ড ছড়িয়ে দিয়ে তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।বিষয়টি ছাতক থানা পুলিশের নজরে এলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।

এ বিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন পিপিএম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে পিতা কর্তৃক কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম