সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

রাতের আঁধারে ছাতকের সড়ক দিয়ে আসছে জ্বালানি কাঠবোঝাই ট্রাক-পিকআপ। এসব গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধে। কাঠবাহী গাড়ি ভেদে ৫শত থেকে ৫হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ চালকদের।
ছাতক বনবিটের নৈশপ্রহরী মহসিন মিয়া ও বনপ্রহরী আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।জানা যায়, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কাঠবোঝাই প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি গাড়ি ছাতকের আসে।
এসব গাড়ি সড়কে থামিয়ে ভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া হয়।গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের হাসান চত্বর থেকে দোয়ারাবাজারমুখী সড়কের রেললাইন পার হওয়ার পর একটি অন্ধকার স্থানে কাঠবোঝাই দুটি পিকআপ থামিয়ে চালকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথাবার্তা ও বাকবিতণ্ডা হয় মহসিন মিয়া ও আজিজুর রহমান নামের বনকর্মীর।
চালকরা কয়েকজনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতেও দেখা যায়। গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি আটকের কারণ জানতে চাইলে চালকেরা অভিযোগ করেন, কাঠ পরিবহনের জন্য তাদের নিয়মিত ৫শত টাকা থেকে ৫হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটক, মামলা কিংবা হয়রানির ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি করেন তারা।তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বনকর্মীরা জানান, গাড়ির কাগজপত্র এবং পরিবহন করা কাঠের বৈধতা পরীক্ষা করা হচ্ছিল। অবৈধভাবে কাঠ পরিবহন বন্ধ করতেই তারা কাজ করছেন বলে দাবি করেন।
ছাতক বনবিট কর্মকর্তা কেভিএম ফেরদৌসকে ঘটনাটি জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তার উপস্থিতিতে কাঠবোঝাই গাড়িগুলো আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।ছাতক বনবিট কর্মকর্তা কেভিএম ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি আমি দেখতেছি।
সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সড়কে গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, এভাবে রাস্তায় টাকা আদায় করা অন্যায়। বন বিভাগের কর্মীরা এ ধরনের কাজ করতে পারেন না। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


