সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে ছাত্রদলের তিনজন ও ছাত্রশিবিরের তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে তিন গণমাধ্যমকর্মী হেনস্তার শিকার এবং দুটি মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোশাহিদ আলী, ক্রীড়া সম্পাদক এআর সায়েম ও সদস্য লোকমান হোসেন হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এ ধরনের আচরণে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে কলেজে একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। দুপুরে অনুষ্ঠান চলাকালে কলেজ গেট এলাকায় ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাহবুব আহমদ ও গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. জুনায়েদ আহমেদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সংঘর্ষ কলেজ ক্যাম্পাস থেকে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি দোকান এবং ছাত্রশিবিরের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের কারণে ছাতক-সিলেট ও ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কে কিছু সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন। এ নিয়ে উত্তেজনার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
এতে তাদের অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাহবুব আহমদ। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. জুনায়েদ আহমদ অভিযোগ করেন, নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করলে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আগে থেকেই দেশীয় অস্ত্র, রড ও ছুরি নিয়ে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে উভয় পক্ষের এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গণমাধ্যমকর্মীদের হেনস্তার ঘটনায় উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের সময় বাধা, হেনস্তা কিংবা তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ছাত্রশিবিরের কেউ গণমাধ্যমকর্মীদের হেনস্তার ঘটনায় জড়িত থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ওই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাতকে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও তাদের মুঠোফোন ভাঙচুরের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা শাখার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।
এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও তাদের মুঠোফোন ভাঙচুরের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। গোবিন্দগঞ্জে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহকালে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি ও ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মুশাহিদ আলী, ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের এসাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক আশফাকুর রহমান ছায়েম, ও বাংলাদেশ এমফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক লোকমান হোসেন সহ স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের উপর ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা অতর্কিত ভাবে চড়াও হয়। এসময় কর্তব্যরত সাংবাদিকদেরকে হেনস্তা করার পাশাপাশি তাঁদের ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি মুঠোফোন ভাঙচুরের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ এবং সত্য প্রকাশের অতন্দ্র প্রহরী। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি মোশাহিদ আলী, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক আশফাকুর রহমান ছায়েম, ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা কমিটির দপ্তর এএসম্পাদক লোকমান হোসেন সহ স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীর উপর অতর্কিত ভাবে চড়াও হয়ে তাদেরকে হেনস্তা করা হয়। এসময় কর্তব্যরত এসাংবাদিকদের হেনস্তা করার পাশাপাশি তাঁদের ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি মুঠোফোন ভাঙচুর করা এহয়েছে।
যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত। সত্য তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা বাধার শিকার হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। যারা নিজেদের অপকর্ম ও অপরাধ আড়াল করতে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় বা হামলা চালায়, তারা সমাজ, এরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের শত্রু। এই ধরণের ফ্যাসিবাদের চর্চা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এদিকে বিবৃতিতে, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলা হয়,ু সাংবাদিক মোশাহিদ আলীসহ সংবাদকর্মীদের হেনস্তা ও সম্পদ ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতি দতারা আরো বলেন, অনতিবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে, গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় ছাতকের সাংবাদিক সমাজ সর্বস্তরের সাংবাদিকদের সাথে নিয়েএ ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
বিবৃতি দাতারা হলেন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নুর উদ্দিন, সহ-সভাপতি এম এইচ খালেদ মিয়া, আরিফুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজল উদ্দিন, জুনেদ আহমদ রুনু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তাজিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ জানে আলম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জামরুল ইসলাম রেজা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পাপলু মিয়া, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মেহেদী, দপ্তর সম্পাদক লোকমান হোসেন, নির্বাহী সদস্য হিসেবে রাফি আহমদ ও মোহাম্মদ আলী ।


