নিউজ ডেস্ক
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় চার শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে সভা আহ্বানের জন্য সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। ঘোষণাপত্র প্রণয়নে সহায়তা ও প্রচেষ্টার জন্য সহ-সমন্বয়কারীদেরও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
পরে বিশ্বব্যাংকের হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে প্রায় এক কোটি মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। শত শত নদী আমাদের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগরে মিশেছে। আমাদের মানুষ পানির কাছাকাছি বসবাস করে। আমাদের সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ উপকূলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ নিয়েও এমন একটি বিপর্যয়কর ভবিষ্যৎ ঠেকাতে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে এবং উপকূল সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।
জলবায়ু সহনশীলতা আরও শক্তিশালী করতে উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পানি সংরক্ষণ ও মজুতের জন্য পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া, মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সবুজ প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি সবুজ শিল্প ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনের প্রসার, জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা এবং বন, জলাভূমি ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থার সুরক্ষা জোরদারে কাজ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে, সাগর তার প্রতিটি টনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। শুধু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এর প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই পরিবেশে কার্বন নিঃসরণ কমাতে আমাদের ভোগের ধরন ও পদ্ধতি নতুন করে ভাবতে হবে।
বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো একা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি মোকাবিলা করতে পারে না জানিয়ে বলেন, এ প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে বৈশ্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ কারণে চারটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।


