জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিলেই বিরোধী দলকে তাদের আসনের আনুপাতিক হারে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘আপনারা (বিরোধী দল) বাইরে রাজনীতি না করে সংসদে আসুন, এখানেই কথা বলি।সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আপনারা অংশগ্রহণ করলে আমরা ধরে নেব যে, আপনারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সহযোগিতায় আসছেন।
কিন্তু আপনারা সহযোগিতায় আসবেন না আবার এখনই পাক্কা হিস্যা চাইবেন— এই দুটি বিষয় সাংঘর্ষিক।’বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এর আগে বিরোধী দলের উপনেতা সংসদীয় কমিটিতে আনুপাতিক হারে সভাপতি পদ না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পিকার, সময়মতো সবাইকে আপনি বাড়ি যাওয়ার নসিহত করেছিলেন কেউ তো শোনেনি।
বিরোধী দলের উপনেতা বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি এখন জবাবটা শুনতে চাচ্ছেন না। তারা ঘোষিতভাবে ওয়াকআউট করলেন না, কিন্তু সবাই হয়ত টায়ার্ড হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। যাই হোক, পত্রিকায় দেখে নিলেই হবে।’আরও পড়ুনকওমি মাদরাসার জন্য ৬ শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তকওমি মাদরাসার জন্য ৬ শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত বিরোধী দলের উপনেতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘সংবিধান বা সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির (রুলস অব প্রসিডিউর) কোথাও বলা নেই যে বিরোধীদলীয় সদস্যদের আসনের আনুপাতিক হারে সভাপতি পদ দিতে হবে।
অতীতের পার্লামেন্টেও এমন কোনো নজির নেই। আমরা বিদ্যমান প্রথা ও রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে বিরোধীদলীয় সদস্যদের সংখ্যার অনুপাতে ২৬ শতাংশ কমিটিতে স্থান দিয়েছি। রুলস অব প্রসিডিউরে বাধা না থাকলেও বিরোধী দল এটিকে নিজেদের ‘‘অধিকার’’ হিসেবে দাবি করতে পারে না।’সংসদে সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় স্বৈরাচারের উদ্ভব হতে পারে— বিরোধীদলীয় উপনেতার এমন আশঙ্কার কড়া জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘২০০১ সালের পার্লামেন্টে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল কিন্তু আমরা তো তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত করিনি। ১৯৭৯ সালের সংসদে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দেন। সেখানেও আমাদের দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি ছিল। বিএনপি যখনই দুই-তৃতীয়াংশের মেজরিটিতে থেকে সরকার গঠন করে, তখন গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় পদ্ধতি আরও সুদৃঢ় হয়।
এটি আমি আমার বন্ধুদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।’সংসদীয় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৩৯টি ও সংসদীয় আরও প্রায় ১১টি কমিটি রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল যেখানে আমরা উভয়পক্ষ স্বাক্ষর করেছি। সেই সনদ অনুযায়ী আনুপাতিক হারে বিরোধী দল সভাপতি পদ পাবে। তবে একটি কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে স্পিকার, সেটি বাদে বাকিগুলোর ক্ষেত্রে এই অনুপাত প্রযোজ্য হবে।
’বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে এবং সংবিধান সংশোধিত হলে কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে অনুপাত অনুসারে তাদের সভাপতিত্ব দেওয়া হবে। আমরা সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত কমিটিতে তাদের জন্য পাঁচজনের জায়গা রেখেছি।
তারা যদি সংস্কার চান, আর আমরা সংশোধনী চাই— দুটির উদ্দেশ্য তো একটাই। সংবিধান সংশোধনী বিল হিসেবেই এটি সংসদে পাস হতে হবে। তাই তাদের উচিত এই কমিটিতে অংশ নেওয়া।’


