জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মামলায় এক আসামি কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত শেষ করে আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারাগারে যাওয়া ওই আসামির নাম আমিনুর রহমান (৫৫)। তিনি মামলার বাদী গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের হওয়া এ মামলায় বুধবার (২২ জুলাই) আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।

শুনানি শেষে আদালত আমিনুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পাশাপাশি মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ মামলার পাঁচ আসামি হলেন- সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় থাকতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগনির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগনির কিছু অপ্রীতিকর ভিডিও সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায়।

অভিযোগে বাদী আরও উল্লেখ করেন, ওইদিন (১৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওবায়দুরের মা ও ছোট বোন এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় ওবায়দুর স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তার অভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন।

এজাহারে ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি জানানো এবং পরবর্তীতে ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সন্দেহের জেরে তার ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর এবং শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওই নারীকে নিজের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে দাবি করেন এবং ঘটনাটিকে ‘ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ওই ভিডিওকাণ্ড ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণ হওয়ায় বুধবার গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রবাসীরা চাইলে তাদের বাড়ি পাহারায় আনসার সদস্য নিয়োগ: ডিসি
পরবর্তী নিবন্ধদিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু, ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ