নিউজ ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৬ কোটি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অন্যদিকে, চরম তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ও সারের বাজারে অস্থিরতা এবং যুদ্ধের প্রভাবে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।
তিনি বলেন, খাদ্যবাজার তেলের বাজারের মতো বৈশ্বিকভাবে সমন্বিত নয়। খাদ্য উৎপাদন স্থানীয় আবহাওয়া ও ফসলের চক্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে খাদ্য সংকটের ধরন ও স্থায়িত্ব জ্বালানি সংকটের চেয়ে আলাদা হতে পারে। তবে এর রাজস্বগত প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
চরম তাপদাহের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও সাহেল অঞ্চলে সরকারি রাজস্ব আয় ০.১৫ থেকে ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট কমতে পারে। একই সঙ্গে তীব্র খরার কারণে সাহেল ও পূর্ব আফ্রিকায় সরকারি ব্যয় ৩ থেকে ৪ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সংকট দেখা দেওয়ার পর ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার পরিবর্তে আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দেন তিনি। রদ্রিগো ভালদেসের মতে, ডিজিটাল পরিচয়পত্র, সামাজিক সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত জনগোষ্ঠীর নিবন্ধন এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি। এতে সংকটের সময় দ্রুত ও কার্যকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এখন সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি
আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্ক বলেন, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে কেবল সাময়িক মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন পুনরাবৃত্তিমূলক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজস্বগত ঝুঁকি।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং এল নিনোর মতো আবহাওয়াগত বিপর্যয় একই সঙ্গে খাদ্য, জ্বালানি, নৌপরিবহন ও সারের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এসব সংকটের প্রভাব একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রাজস্ব সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), জাতিসংঘ এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের চতুর্থ দিনে অনুষ্ঠিত ‘বিপর্যয়ের মুখে খাদ্য নিরাপত্তা’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং এসব সংকটের সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রভাব নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও করণীয় তুলে ধরেন আলোচকরা।
খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে রাজস্বের চাপ
আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকে বারবার খাদ্যমূল্যের ধাক্কা মোকাবিলা করতে হয়েছে। যুদ্ধ, বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার সংকট, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং জ্বালানি ও সারের দামের অস্থিরতা খাদ্যবাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পর চালের দাম ৫০ শতাংশ, গমের দাম ৩৭ শতাংশ এবং সয়াবিনের দাম ২১ শতাংশ বেড়েছে। এল নিনোর তীব্র প্রভাবে নাইজারে বৃষ্টিপাত ১৯৯৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ায় চরম তাপদাহ গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রদ্রিগো ভালদেসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চরম তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে জিডিপি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমছে। খাদ্য সংকটের প্রভাব শুধু মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তি বা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সরকারি রাজস্ব ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায়ও এর বড় প্রভাব রয়েছে।


