শেয়ারবাজারে অর্থপাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের অনুপ্রবেশ ও পাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে লেনদেনকারী প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট হিসাবগুলো এখন থেকে বিশেষ নজরদারিতে থাকবে।

পাশাপাশি বেনামি ও সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করতে ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্টফোলিও ম্যানেজারসহ সব মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে কঠোর মানিলন্ডারিং প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিএফআইইউ এ সংক্রান্ত ‘সার্কুলার নং-৩১’ জারি করে পুঁজিবাজারের সব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জারি করা এই নির্দেশনায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ নীতিমালা তৈরি করে পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনার অনুমোদন নিয়ে তা বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে দেওয়া নির্দেশনাগুলো হলো-
কেন্দ্রীয় ও শাখা ইউনিট গঠন: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে চিফ অ্যান্টি মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসারের (ক্যামলকো) নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ এবং শাখা পর্যায়ে ‘শাখা পরিপালন কর্মকর্তা’ (বিএএমএলকো) নিয়োগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গ্রাহকের তথ্য যাচাই ও কেওয়াইসি: নতুন হিসাব খোলার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি (ই-কেওয়াইসি) ব্যবহার করা যাবে।

প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্তকরণ: কোনো কোম্পানির অন্তত ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারের মালিক অথবা মূল নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তির তথ্য ‘প্রকৃত সুবিধাভোগী’ (বেনিফিশিয়ারি ওনার) হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে।

বিশেষ সতর্কতা (ইডিডি): রাজনৈতিক ও দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, তাদের পরিবারের সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ অফশোর কাঠামোর লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ নিতে হবে। এছাড়া জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ বা সন্ত্রাসী সত্তার তালিকার সঙ্গে নিয়মিত তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।

সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (এসটিআর): অস্বাভাবিক বা অসঙ্গতিপূর্ণ লেনদেন নজরে এলে শাখা কর্মকর্তা তা লিখিতভাবে জানাবেন। কেন্দ্রীয় ইউনিট পর্যালোচনা শেষে লেনদেনটি সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হলে ‘গো-এএমএল’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গোপনীয়তা বজায় রেখে বিএফআইইউতে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।

স্ব-মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা: প্রতি ছয় মাস পর (জানুয়ারি-জুন ও জুলাই-ডিসেম্বর) নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী স্ব-মূল্যায়ন প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বিএফআইইউতে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ দিয়ে প্রতিবেদনটি স্বাধীনভাবে যাচাই করাতে হবে।

তথ্য সংরক্ষণ ও প্রশিক্ষণ: কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। হিসাব বন্ধের পরও গ্রাহকের সব নথি ও লেনদেনের তথ্য ন্যূনতম পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

বিএফআইইউর এই কঠোর উদ্যোগ পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের প্রবাহ কমানোর পাশাপাশি আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচাঁদপুরে সিএনজি-পিকআপ-প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২
পরবর্তী নিবন্ধসব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর নির্দেশ