নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নাই, কোনো ধানাই পানাই মানবো না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, যারা শুধু এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য, উপদেষ্টা হওয়ার জন্য জুলাইকে ব্যবহার করেছেন, তাদের এখনই সময় আছে যে নতুন বন্দোবস্তের, নতুন রাজনীতির, নতুন ধারা প্রণয়ন করার যে অঙ্গীকার তারা করেছে, আমার বন্ধুরা করেছেন, তারা যেন নতুন বন্দোবস্তের নতুন ধারাটা মানুষের সামনে প্রকাশ করেন। কিন্তু পুরাতন বন্দোবস্তের আদলে নয়। তারা নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি কথা বলে পুরাতন বন্দোবস্তের মতো আওয়ামী বন্ধুদের, যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন— সেটা সঠিক নয়।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের সামনে তাদেরকে উন্মুক্ত হতে হবে যে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি কোনটা? ‘দায় ও দরদের’ রাজনীতির যেই ভাষাটা আমার কিছু কিছু বৃদ্ধ বুদ্ধিজীবীর ভাষা— তারা আমারও বন্ধু, পুরাতন বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের। শব্দগুলো উচ্চারণ করে যে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি, ‘দায় ও দরদের’ রাজনীতি— এত বাক্যবিশারদ হওয়া ভালো না। কারণ, এই শব্দগুলো অনেক বেশি ওজন বহন করে। এগুলো আমরা ব্যাখ্যা দাবি করি যে আপনাদের নতুন বন্দোবস্ত কী? ‘দরদ এবং দায়ের’ রাজনীতি কী সেটাও বলুন। শুধু বক্তৃতা দিলে হবে না। যদি আপনাদের এই নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি জনগণ গ্রহণ করে, আপনাদের পক্ষে জনগণ থাকবে।
তিনি বলেন, কিন্তু শুধু একটা দল গঠন করে জুলাইয়ের চেতনার ভিত্তিতে এবং এই চেতনাকে ব্যবহার করে যারা ৪৭-এর চেতনার কথা বলে তাদের কাছে গেলে তো অসুবিধা। এখন আমি বলেছিলাম একদিন সংসদে যে- আপনারা তো ৪৭-এও পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন না। এখন একাত্তরের প্রসঙ্গ যখনই আসে বলে ৪৭, আমরা ৪৭-এ যাই—তো ৪৭-এও তো ছিলেন না আপনারা। একাত্তরে তো ছিলেনই না। এখন দয়া করে চব্বিশে থাকেন। তাহলে জনগণ উপকৃত হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবসময় স্রোতের বিপরীতে, জনগণের চাহিদার বিপরীতে বক্তব্য দিয়ে এ দেশের মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না। নিজেদের রাজনৈতিক হীন স্বার্থের জন্য আপনারা ৪৭-কেও ব্যবহার করেন, একাত্তরকে অস্বীকার করেন, ২৪-কে আবার ব্যবহার করবেন— তা হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের রাজনীতি পরিষ্কার। আমাদের সামনের রাজনীতিও পরিষ্কার। আমরা আর কখনো ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি চাই না। পরিষ্কার কি না? আমরা আর কখনো রাজপথে গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিতে চাই না। সেই পরিবেশ আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে ফ্যাসিবাদ-বিরোধী জাতীয় ঐক্যটাকে আমরা ধরে রাখতে হবে।
‘আমাদের মধ্যে দ্বিমত থাকবে, বহুমত থাকবে, সেটা সংসদে থাকবে, সংসদের বাইরে থাকবে; কিন্তু জাতীয় এই প্রশ্নগুলোতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যদি আমরা না থাকি, কেবলই স্বৈরাচারের ফেরার পথটা প্রসারিত হবে। সেটা কি আমরা কেউ চাই? না। যদি না চাই যে স্বৈরাচারের পুনরুত্থান, স্বৈরাচারের পুনরুৎপাদন বা ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি বা উৎপাত কোনোকিছুই যদি আমরা না চাই— তাহলে আমরা এই সংসদীয় রাজনীতিটাকে শক্তিশালী করি এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিটাকে শক্তিশালী করি, জাতীয় ঐক্যটাকে আমরা আরও শক্তিশালী করি এবং নিজেদের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য আমরা জাতির মধ্যে বিভক্তিমূলক কোনো বক্তব্য যাতে না দেই, যার ফল কেবল ফ্যাসিবাদই পাবে আর কেউ পাবে না।’
মব জাস্টিস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মব জাস্টিস কোনোদিন জাস্টিস হতে পারে না। মব কালচার হতে পারে, অপকালচার হতে পারে। তো এটা ব্যবহার হতে হতে অনেকটা অনেকেই মব জাস্টিস বলে থাকেন। তবে এটাকে মবের নামে যেই ইনজাস্টিস হয়েছে সেটা বলা যায়। মবের নামে যে অপকালচার সৃষ্টি হয়েছে তা বলা যায়। আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই মব কালচারটা সৃষ্টি হওয়ার কারণও ছিল, যেহেতু তখন আইনের শাসন কার্যকরভাবে তেমন কোনো প্রয়োগ করা যাচ্ছিল না।
তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাতে প্রশাসন, শাসন বিভাগ সহযোগিতা করতে পারে, পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করতে পারে- কিন্তু সেই আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা ইত্যাদির ফলে এ আইনের শাসনটা বাস্তবায়ন হবে জুডিশিয়ারির হাত ধরে।জুডিশিয়ারি বিরুদ্ধে আমরা তেমন কিছু বলতে চাই না, এখন সমালোচনাও করতে চাই না। কারণ, সম্পূর্ণভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে তখন আমরা তাদেরকে দায়ী করতে পারবো। এখনো পর্যন্ত যে বক্তব্যটা মাঠে আছে তা হলো যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন কি না।


