জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের দায় কম, ভোগান্তি বেশি: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় জলবায়ু ন্যায্যতা, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলন থেকে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের তেমন ভূমিকা না থাকলেও দেশটিকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ঝুঁকি মোকাবিলা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কপ-৩১ এ আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ আশা করে।

পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। একই সঙ্গে ক্লিন এনার্জি ও সোলার এনার্জির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বন্যা ও খরা মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশকে বন্যা-খরার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

সুন্দরবন রক্ষায় পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগের কথাও জাতিসংঘে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে মিঠাপানির প্রবাহ বাড়ানো এবং বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ জোরদারের পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’ সই করেছে বলেও ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজাতিসংঘে দূরদর্শী ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
পরবর্তী নিবন্ধজাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে অপরিহার্য: ড. খলিলুর রহমান