নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। তবে টাকার অঙ্কে সামান্য প্রবৃদ্ধি হলেও শিল্প ও সেবা খাতে স্বস্তির খবর নেই। এ দুই খাতে প্রবৃদ্ধি কমার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশাল এক বাধা সৃষ্টি হয়েছে। যা দেশের অর্থনীতির জন্য সুখকর নয়।
সোমবার (২০ জুলাই) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
বিবিএস জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। অথচ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
চলতি মূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে ১৫,৩৯১ বিলিয়ন টাকা। এর আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই প্রান্তিকে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার ছিল ১৪,১৯২ বিলিয়ন টাকা।
কৃষি খাত
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থির মূল্যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কৃষি খাতেও প্রবৃদ্ধির হার ভালো নয়। তৃতীয় প্রান্তিকে কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২ দশমিক ১১ ও ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল মাইনাস ০ দশমিক ১২ ও ১ দশমিক ৯০ শতাংশ।
সেবা খাত
সেবাখাতেও প্রবৃদ্ধির পতন দেখা গেছে। সেবাখাতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল প্রায় দ্বিগুণ বা ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৫১ ও ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ হারে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৪৯ ও ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
শিল্প খাত
কৃষি খাতের মতোই সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী দেখা গেছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে মাইনাস ০ দশমিক ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৮২ ও ১ দশমিক ২৭ শতাংশ, আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৪ দশমিক ৮০ ও ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।


