৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষক নিয়োগে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বর্তমানে ৭৭ হাজার পদ ফাঁকা পড়ে আছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রতিদিন মিটিং করছেন। এর মধ্যে কোনো দুর্নীতি চলবে না, কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই) আয়োজিত ‘মজবুত অর্থনীতির জন্য শিক্ষা: দক্ষতা, ভাষা ও বৈশ্বিক গতিশীলতা’ শীর্ষক এ সেমিনারে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক সংকট, কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষক নিয়োগ ও এনটিআরসিএ প্রসঙ্গে ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও মানসম্মত শিক্ষার জন্য ২০০৪ সালে আমরা এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এসে এটাকে ধ্বংস করেছে।

তারা লাখ লাখ মানুষকে লাইসেন্স দিয়েছে, কিন্তু চাকরি দেয়নি। অনেকের বয়স পার হয়ে গেছে। এদিকে ৭৭ হাজার পদ ফাঁকা। আমরা কোনো দুর্নীতি ছাড়াই যোগ্যদের নিয়োগ দেব।

শিক্ষার্থীদের কোনো বিষয় পুরোপুরি না বুঝে বা মিথ্যা গুজবে কান দিয়ে অকারণে আন্দোলন না করারও আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, পাঁচ মাস বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে ঘন ঘন আন্দোলন করা সমীচীন নয়। আমরা দায়িত্ব নিয়েছি তোমাদের জন্য, তোমাদের জন্যই কাজ করছি। ভেবেচিন্তে আন্দোলন করো। আর যদি মনেই করো আন্দোলন করতে হবে, তবে আগে আমার কাছে এসো, আমার সঙ্গে ডিবেট (বিতর্ক) করো। যৌক্তিক দাবি থাকলে মেনে নেব। কিন্তু বিনা কারণে হইচই করে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের একটি মিটিংয়ের রেজুলেশনের অংশবিশেষ কেটে ছড়িয়ে দেওয়া হলো, আর তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ছাত্ররা মিছিল শুরু করল। একটি সিদ্ধান্ত তো আলোচনার টেবিলে হবে। রেজুলেশন মানেই কি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত? অথচ চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে সবাই চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, একবারও কানে হাত দিয়ে দেখছে না কানটা আছে কি না! ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি দায়িত্বে ছিলাম, তখন অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এমন উসকানিতে পা দিত না।

এসএসসি পরীক্ষায় শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার প্রায় ৩১২টি প্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করেনি। একটি প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছ থেকে টাকা নেবে, শিক্ষকদের বেতন (এমপিও) দেব, আর সেই প্রতিষ্ঠান জিরো পাবে, এটা হতে পারে না। ২০০১ সালেও এমন হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান ছিল, আমি সেগুলো বন্ধ করেছিলাম। এবারও তাই হবে।

যত্রতত্র বিষয় খোলার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এমন সব বিষয়ে গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে, যার কোনো চাহিদা নেই, ফলে বেকারত্ব বাড়ছে। পলিটিক্যাল প্রেসার ফেস করা সত্ত্বেও আমি মানহীন কোনো কলেজ বা ডিগ্রির অনুমোদন দিচ্ছি না। এ ছাড়া যত্রতত্র প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির লাগামও আমরা টেনে ধরছি।

এ সময় তিনি কোয়ালিটি এডুকেশন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জয়েন্ট কলাবোরেশন, কারিগরি শিক্ষা (টিভিইটি) এবং ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি বা কোরিয়ান ভাষার মতো বিদেশি ভাষা শেখার ওপরও জোর দেন।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রখ্যাত শিক্ষা অর্থনীতিবিদ ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। এ ছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আবদুল করিম, ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ কে এম ফাহিম মাশরুর এবং মার্কোপোলো এআই-এর সিইও তাসফিয়া তাসনিম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধছাতকে সাংবাদিক মুশাহিদ আলীর চাচার ইন্তেকাল, দাফন সম্পন্ন
পরবর্তী নিবন্ধশেখ হাসিনা ফিরলে পূর্ণ নিরাপত্তায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা