ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ করতে চান না মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা

নিউজ ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ছয় মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধ থামার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপও ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক সেনা, যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রাখার ফলে বিশ্বের অন্য অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে দেশটির সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের সামরিক অভিযান আরও দীর্ঘায়িত করার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, তারা মনে করছেন, এভাবে অভিযান চালিয়ে যাওয়া টেকসই নয় ও এতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যত্র, এমনকি নিজ ভূখণ্ডের নিরাপত্তা মোকাবিলার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গোপনীয় ওই মূল্যায়নের বিষয়টি ১৪ আগস্টের ‘সেক্রেটারি অব ডিফেন্স অর্ডার্স বুক’ বা এসডিওবিতে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নথিটি সাধারণত মাসে দুইবার তৈরি করা হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, বিমান, সেনাসদস্য ও অস্ত্রব্যবস্থার প্রাপ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সামরিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কী ধরনের সম্পদ কোথায় ব্যবহার করা হচ্ছে ও বাহিনীর শীর্ষ জেনারেল ও অ্যাডমিরালরা সেই ব্যবস্থাপনা নিয়ে কী ভাবছেন, তারও প্রতিফলন থাকে।নথিটির বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে তথ্য দিয়েছেন, কারণ এটি শ্রেণিবদ্ধ বা গোপনীয় নথি।

মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি সেনা সতর্ক অবস্থায়ইরানের সঙ্গে সংঘাত অবসানের জন্য তেহরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বারবার বলেছেন, প্রয়োজন হলে আরও সামরিক পদক্ষেপসহ সব ধরনের বিকল্প তার হাতে রয়েছে।

এ কারণে ইরান যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম কয়েক মাস ধরে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনাকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। প্রেসিডেন্ট নতুন করে হামলার নির্দেশ দিলে যাতে দ্রুত তা কার্যকর করা যায়, সে প্রস্তুতিই রাখা হয়েছে।

১৪ আগস্টের আদেশ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু সেনাকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং কিছু বাহিনীকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সেখানে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে নথিটির বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এই মোতায়েন আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাই সামরিক নেতাদের উদ্বেগ প্রকাশে বাধ্য করেছে বলে তাঁদের ভাষ্য।

ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী ইউরোপীয় কমান্ড, প্যাসিফিক কমান্ড ও সাদার্ন কমান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআজ সর্বোচ্চ লোডশেডিং ঢাকায়, অন্যান্য জোনেও আছে দুঃসংবাদ
পরবর্তী নিবন্ধমক্কা চুক্তিতে কোনো ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী