নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়ায় বোমা সদৃশ বস্তু দুটি হাতবোমা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। যেগুলো নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে পালানো জঙ্গি জুয়েল ভূঁইয়া ওরফে ওস্তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
দুই বোমাসহ তাকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়ে পুলিশ বলছে, এই জুয়েল নব্য জেএমবির আলোচিত বোমার কারিগর নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
পুলিশ বলছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী কারাগারে দাঙ্গার পর পালিয়ে যাওয়া নয়জন জঙ্গির মধ্যে ছিলেন জুয়েল ভূঁইয়া। ছয়দিন পর ২৫ জুলাই তিনি আবার নরসিংদী জেলা পুলিশের হাতে ধরাও পড়েন।
পরে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সেপ্টেম্বরের দিকে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।
সবশেষ রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বিভিন্ন জায়গা থেকে বোমা উদ্ধার এবং পুলিশের ওপর হামলার তদন্তের সূত্র ধরে ডেমরার সারুলিয়া এলাকার পশ্চিম নিঝুমবাগ থেকে জুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে দুটি বোমা উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহসিন মাসুদ জানান, বোমারু মামুনের সহযোগী হিসেবে সন্দেহভাজন জুয়েল ওই এলাকায় অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। অভিযানে দুটি হাতে তৈরি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরেকজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, জুয়েল যে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, পরে সেটি ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে তল্লাশি শেষে উদ্ধার করা বোমা দুটি নিষ্ক্রিয় করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মাদরাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, এরপর ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশির সময় পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে বোমার ব্যাগ ফেলে পালানো, মার্চে কুমিল্লার শিব মন্দিরে বিস্ফোরণ এবং একই মাসে রাজধানীর সায়েদাবাদে পুলিশের তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাতেও মামুন ও তার শিষ্য আরিফ ওরফে ইমরানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের ধারাবাহিক অভিযানেই রোববার ডেমরা থেকে গ্রেফতার করা হয় জুয়েল ওরফে ওস্তাদকে।


