জেলা প্রতিনিধি
রাজবাড়ী সদর উপজেলায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে পিয়ারুল ইসলাম (৩০) নামে শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে সদর উপজেলার সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পিয়ারুল ইসলাম রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারীপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে। তিনি এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নামে রাজবাড়ী সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, মাদকসহ ১৪ টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামজ পড়ে বের হবার সময় মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরিহিত দুই অজ্ঞাত মোটরসাইকেল আরোহী পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছোড়ে। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধ পিয়ারুলকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিক ইসিজি করে তার হার্টবিট না পেলে জরুরি ভিত্তিতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। ফরিদপুরে নেওয়ার পথে মারা যান পিয়ারুল। মরদেহ আবার রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ফেরত আনা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে গুলি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনিক বলেন, পিয়ারুলের শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন পেয়েছি। হাসপাতালে আনার পর ইসিজি করা হলে তার হার্টবিট পাওয়া যায়নি। পরে আমরা তাকে ফরিদপুরে রেফার্ড করি।
এ বিষয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, এশার নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হবার সময় মোটরসাইকেল নিয়ে এসে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে দুই রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাকে ফরিদপুরে রেফার করেন। ফরিদপুর নেওবার পথে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, পিয়ারুলের নামে হত্যাসহ ১৪ টি মামলা রয়েছে। থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশসহ একাধিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে তার পেছনে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।


