নিজস্ব প্রতিবেদক
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজপথে নামা পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর মিরপুর। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে সরে যাওয়ার পর মিরপুর-১ নম্বরের মাজার সংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় ভাঙচুর চালিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এসময় হিমালয় গার্মেন্টস ও বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর করা হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষের পাশাপাশি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে আশুলিয়ার অন্তত ১৩টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানাধীন হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। পরে মিরপুর-১০ থেকে আসা শ্রমিকরা গার্মেন্টসটি ও পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর চালান।
এসময় ঘটনাস্থলে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক ছিলেন।
এর আগে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ নম্বরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে ওই এলাকার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
দুপুর আড়াইটার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে সরে যান আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এরপর তারা মিরপুর-১ নম্বরের মাজার সংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় গিয়ে ভাঙচুর চালান।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
তিনি জানান, মিরপুর-১০ নম্বর থেকে শ্রমিকরা সরে যাওয়ার পর মিরপুর-১ নম্বরের মাজার সংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মিরপুর বিভাগের ডিসি বলেন, যারা এসব ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত, তাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, শনিবার সকাল ৮টার পর আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার, আমতলা, নয়াপাড়া ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সকালে নাঈম নিটওয়্যারের শ্রমিকরা প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে বিক্ষোভ করেন।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আশপাশের কয়েকটি কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এসময় কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস, এআর জিন্স ও সিডব্লিউএসহ কয়েকটি কারখানা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
শিল্প পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে- মিলিনিয়াম টেক্সটাইল লিমিটেড, হেসং কোরিয়া লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস লিমিটেড, টেক্সটাউন গ্রুপ, আফিয়া নিটওয়্যার লিমিটেড, নাঈম নিটওয়্যার লিমিটেড, জিহান গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, লেদারেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, এভারব্রাইট সোয়েটার লিমিটেড, গ্রিন লাইফ নীটেক্স লিমিটেড ও পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেডসহ অন্যান্য কারখানা।
সবমিলিয়ে অন্তত ১৩টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এ পর্যন্ত ১৩টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের একজন সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।


