যখনই দেশের মানুষ অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই তারা বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং বিএনপি ক্ষমতায় এসে প্রতিবারই দেশকে সংকট থেকে বের করে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি সংকটে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি হাল ধরেছে এবং সফল হয়েছে।
জিয়াউর রহমান তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে দেশকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন।১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া নারী শিক্ষায় বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন এবং দুই কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে এনেছিলেন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও বিএনপি দেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছিল।ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা (ফ্যাসিবাদ) শুধু লুটপাট ও অর্থ পাচার করেই ক্ষান্ত হয়নি, খেলাপি ঋণের হিসাবেও জালিয়াতি করেছিল।
২০২৪ সালে তারা খেলাপি ঋণ দেখিয়েছিল মাত্র ১১ শতাংশ।অথচ আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ফরেনসিক অডিটে দেখা যায়, প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৫.৫ শতাংশ। তবে আমাদের সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গত ৫ মাসে তা কমে ৩২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধের কথা জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, যাঁরা দেশকে ঋণের ভারে জর্জরিত করেছেন, তাঁদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
কিন্তু এই দেশের কাঁধে যে ঋণের বোঝা, তা আমাদেরই শোধ করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার গত ৫ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২ হাজার ৪৭৬ মিলিয়ন (২৪৭৬ লক্ষ) মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।
গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশীয় সোর্স বা বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি।
দেশকে সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় গ্যাস আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে আমাদের দুটি এফএসআরইউইয়ের (এলএনজি টার্মিনাল) একটি দুর্ঘটনার কারণে সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়।
এটি বাড়তি বিপদের সৃষ্টি করেছে।বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা এই সংকট সমাধানে বিরোধী দলের বন্ধুদের কাছে সহযোগিতা আশা করেছিলাম। কিন্তু দেখলাম লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।
লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমাধান করা যেত, তাহলে আমরাই সবার আগে লংমার্চ করতাম। জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও উঠছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উত্তরাধিকার সূত্রেই এই সংকট পেয়েছি। তবে আমরা বসে নেই। ইতোমধ্যেই অনেকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা শুধু বিদ্যুৎ গ্রাহক নয়, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হওয়ার পরিকল্পনায় এগোচ্ছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই আমরা এই গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।


