নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৪১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। এই তিন মাসে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এনবিআরের।
অন্যদিকে, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।গত অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৯০ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।খাতভিত্তিক হিসাবে, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আদায়ে।
এ খাতে প্রথম তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৯ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৭ কোটি টাকা।আয়কর ও ভ্রমণকর খাতে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৩ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা।
ঘাটতি রয়েছে ৯ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।অন্যদিকে, আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ১২৯ কোটি টাকা। এ খাতে ঘাটতি ১২ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা।রাজস্ব আদায়ের এ ধীরগতির পেছনে ভ্যাট রিটার্ন জমার নিয়ম পরিবর্তনকে আংশিকভাবে দায়ী করছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।
তাদের ভাষ্য, ব্যবসায়ীদের প্রতি মাসের পরিবর্তে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট মাসে রিটার্ন জমা দেয়নি।
ফলে সেপ্টেম্বরে ভ্যাট আদায় কমে যায়।রাজস্ব আদায় নিয়ে উদ্বেগ এবং পরিচালনাগত অসুবিধার মধ্যে চলতি অক্টোবর মাসের শুরুতে আবারও মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে এনবিআর।চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।


