সুরমায় নৌ নোঙরেই দিতে হয় চাঁদা!

নুর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ : 

সুনামগঞ্জের ছাতকে নৌ-যান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সুরমা নদীর তীরে নৌ-যান নোঙর করলেই নিরাপত্তার অজুহাতে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলছে। মালবাহী নৌযান, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযান থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিরাপত্তা প্রহরির নামে আদায় করছে চাঁদা।জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌ-যান ছাতকে আসে সিমেন্ট, বালু, পাথরসহ মালামাল পরিবহন করার জন্য।

নৌ-যানগুলো ছাতক পেপারমিল, লাফার্জ ঘাট ও লক্ষিবাউরবাজার সংলগ্ন সুরমা নদীর দুই তীরে নোঙর করায় মাদরাসা, মসজিদ ও নিরাপত্তা প্রহরির নামে এমনকি গাছের সাথে নৌ-যান বাঁধায় নেওয়া হচ্ছে চাঁদা।

এছাড়াও হিজড়া সদস্যরা নিচ্ছে ২শ’ টাকা হারে চাঁদা। অভিযোগ উঠেছে, চাঁদাবাজদের চাঁদা দিলে চুরি-ডাকাতি কমে যায় এবং চাঁদা না দিলে অপরাধ বেড়ে যায় এমন পরিস্থিতি প্রকৃতপক্ষে একটি কৌশলগত চাঁদাবাজির ইঙ্গিত বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সরকারি টেন্ডার বা বৈধ ইজারা ছাড়া কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর টোল আদায়ের আইনগত সুযোগ না থাকলেও সেই নিয়ম উপেক্ষা করে একদল চাঁদাবাজরা অদৃশ্য শক্তিরবলে নৌ-যান ঘাটে ভিড়লেই ২শ’ ও ৩শ’ টাকা হারে আদায় করছে।

সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তা প্রহরির নামে ১শ’ টাকা, গাছে নৌ-যান বাঁধার ভাড়া ১শ’ টাকা ও মাদরাসা মসজিদের নামে ১শ’ টাকাসহ মোট ৩শ’ টাকা করে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে নদীতে চলাচলরত এসব নৌ-যান থেকে হিজড়া জনগোষ্ঠীরা ২শ’ টাকা হারে আদায়ের অভিযোগ শ্রমিকদের। এসব ঘটনায় পেপার মিল এলাকায় আজিম উদ্দিন, তাজির উদ্দিন ও স্থানীয় শ্রমিক নেতা এলেমান এবং লক্ষিবাউর এলাকার আবদুল জলিলসহ জড়িত একাধিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।

আজিম উদ্দিন ও তাজির উদ্দিন বলেন, এখানে চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে ভলগেট মালিক ও শ্রমিক সমিতির উদ্যোগে নিরাপত্তা প্রহরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বেতন পরিশোধের জন্য নৌ-যানের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে টাকা নেওয়া হয়।

একই বক্তব্য দিয়েছেন উড়াইল নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মিন্নত আলী ও স্থানীয় শ্রমিক নেতা এলেমান, তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মালিক শ্রমিক সংগঠনের অনুমতিক্রমে নিরাপত্তা প্রহরির বেতনের জন্য এসব অর্থ আদায় করা হয়, এটি চাঁদাবাজি নয়।

লক্ষিবাউরবাজার এলাকায় অর্থ আদায়কারি আবদুল জলিল বলেন, নিরাপত্তা প্রহরির জন্য তিনি ১শ’ টাকা হারে উত্তোলন করেন। সড়কের গাছে বাঁধার জন্য ১শ’ টাকা অন্যরা নেয়। হিজড়া সরদার পাখি বলেন, তারা জোর করে কোন টাকা আদায় করেন না। এমনিতেই নৌ-শ্রমিকরা দেয়। 

পেপার মিল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি খায়ের উদ্দিন বলেন, এখানে কোন চাঁদাবাজি হয় না। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। তবে নিরাপত্তা প্রহরির জন্য যে টাকা উত্তোলন হয় সেটা নৌ-মালিক ও শ্রমিক সমন্বয়ে।লক্ষিবাউর মাদরাসার সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, মাদরাসার নামে ১শ’ টাকা অনেক আগেই শ্রমিকরা ধার্য করে সাহায্য করছেন, আমরা জোর করে আদায় করছিনা।নদীপথ ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী, মাঝি, নৌ-যান শ্রমিক ও বডি মালিকরা অবিলম্বে এ ধরনের অবৈধ চাঁদা আদায় বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপসহ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ছাতক নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, মালিক শ্রমিক সমঝোতায় যদি কোন নিরাপত্তা প্রহরীর বেতনের জন্য এসব অর্থ  উত্তোলন হয় তাহলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। তবে এসব বিষয়ে কোন ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

এছাড়া হিজড়ারা মুসেলকা দিয়ে গেছে জোরপূর্বক কোন অর্থ আদায় না করার শর্তে। শ্রমিকরা তাদের ইচ্ছায় কোন অর্থ দিলে দিতে পারে। এ বিষয়েও কোন অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেল) শেখ মোরছালিন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজুলাই জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধবরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ১০