ষষ্ঠ দিনের অবরোধে সাজেক, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

নিউজ ডেস্ক

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ষষ্ঠ দিন আজ। অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে।এদিকে সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী দুই সংগঠন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন।

এতে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- সাজেক এলাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার। এ দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।

বৈঠকেও মেলেনি সমাধানসোমবার বিকালে সাজেকের উজোবাজার এলাকায় সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সাজেক থেকে সন্তু লারমা সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাবি পূরণে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।

এর আগে সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান অস্থিরতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্যরা। ২৫ অক্টোবর রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দুই জেলার হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

তবে এসব উদ্যোগের পরও এখন পর্যন্ত সংকট নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।বন্ধ যান চলাচল, পর্যটকশূন্য সাজেকঅবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এর আগে গত ২২ অক্টোবর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর সাজেকের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক ভ্রমণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।গত ১১ অক্টোবরও একই ধরনের অবরোধের কারণে সাজেকে পর্যটক প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর অবরোধ শিথিল থাকলেও ২২ অক্টোবর থেকে নতুন করে অবরোধ শুরু হয়। ফলে স্বল্প সময়ের জন্য পর্যটন কার্যক্রম চালু হওয়ার পর আবারও অচলাবস্থায় পড়েছে সাজেক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিল জাপান
পরবর্তী নিবন্ধজাপানে জেরা’র এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী