নিজস্ব প্রতিবেদক
মুখোশধারী অনেকে এখনো ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের চেষ্টায় আছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষ বলা হয়। তাদের ধরেন ৯৯.৯ পার্সেন্টের দেশ মানুষের চোখে আলো আছে। কিন্তু যাদের চোখে আলো আছে, যারা এই দেশ গঠন করার কথা, মানবিক মূল্যবোধের কথা বলার কথা, তারা কেউ চোখে দেখছেন না। তারা এই দেশের মানুষের অধিকার নিয়ে যাদের কথা বলার কথা ছিল, তারা কেউ করেন না। তারা আত্মকেন্দ্রিকতায় ভুগছেন।’
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আর যারা আজকে এখানে এসে যাদের সঙ্গে দেখলাম, তাদের প্রত্যেকের চোখের দিকে মুখের দিকে তাকালে মনে হয় প্রত্যেকে এক একজন স্বপ্ন।’
‘আর ওই ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে দেখবেন, অবিকল মানুষের মধ্যে দেখতে অনেক মুখ আছে। ধরে নিয়ে রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে হত্যা করে দিলেন। মানুষের মতো মুখ আছে, দেখবেন কারো ভাই, কারো বোন, কারো মা, কারো স্বামী এখনো নিখোঁজ আছে। অথচ তাদের চোখে আলো আছে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে যারা চোখে আলো নিয়ে এই সমাজে বিচরণ করছি আমরা, আমাদের অনেকের মানুষের মতো মুখোশ আছে। সেই মুখোশ নিয়ে আমরা যেভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি, সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি না, ২০১৪ সালের জুলাই-আগস্টের সময় পাখির মতো গুলি করে এক হাজার ৪০০ মানুষকে রাস্তায়, দিনে হত্যা করা হয়েছে। ৩০ হাজারের মতো মানুষ কেউ হাত হারিয়েছে, কেউ পা হারিয়েছে, কেউ মাথা হারিয়েছে, কেউ খুলি, মাথা খুলি এখন অনেকের, প্লাস্টিক করে রাখা ভেতরের মগজটা আছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র ছিল, তার এই পাসটা নেই।’
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এখনো মানুষের মুখোশধারী অনেকের চোখ আছে, আলো আছে। তারা বলে এগুলো কিছু হয় না। তারা এখনো ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের জন্য চেষ্টায় আছে। আমরা বলব, আপনারা যে যেখানেই থাকুন চোখ খুলুন। আমরা যদি অপরাধ করি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখান, নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে এটা আপনার নৈতিক দায়িত্ব, সাংবিধানিক দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, সেখান থেকে যদি আমাদের চোখ খুলি। আমরা যদি আমাদের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজ করি, তাহলে হয়তো বাংলাদেশ একদিন সুকান্তের ভাষায় এ শিশু বাসযোগ্য ভূমি হিসেবে গড়ে উঠবে। আগামী প্রজন্মের জন্য হয়তো আমরা একটি বাসযোগ্য ভূমি রেখে যেতে পারব। আর যদি ব্যর্থ হই, তাহলে হেলাল হাফিজের ভাষায় আমরা উক্ত পুরুষের ভীরু কাপুরের উপমায় থাকব।’
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আসেন, আমরা ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো প্রত্যেকে প্রত্যেকে জায়গা থেকে কোনো না কোনো জায়গা, আমার বিবেকের জায়গা থেকে, বিবেক বোধ থেকে দায়িত্ব পালন করি।’
তিনি বলেন, ‘সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকের ভুল হবে। ভুল সংশোধন করে আমরা একটার পর একটা কাজ করি। এ দেশকে গড়ে তুলে দেয় তা।’


