দেলোয়ার হোসেন, স্টাফ রিপোটার

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে উপজেলার দিগনগর আবহমান গ্রাম -বাংলার লোকজ ঐতিহ্যকে ধারন
করে এক মনোমুগ্ধকর প্রতিযোগিতামূলক নৌকা বাইচ উৎসবমুখের পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী
নৌকাবাইচ দেখার জন্য নদীর দুপাড় প্রত্যন্ত অঞ্চলের দর্শকদের সাথে যুক্ত হয়েছিল তাদের দূর-দূরান্তের
আত্মীয়-স্বজনরা রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে ও তাদের মনে আনন্দের কোন কমতি ছিল না
দিগনগর বাজার সংলগ্ন কুমার নদে সোমবার ১২ অক্টোম্বর বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো দিগনগর
ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্দ্যেগে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও
গ্রামীণ আয়োজন করেন।নদীর দুই পাড়ে লাক্ষো মানুষের ঢল নেমেছিল এই আয়োজনকে ঘিরে।

দুপুর থেকেই নদীপাড়ে জড়ো হতে থাকে আশপাশের গ্রামের মানুষ শতট্রলার । বিকেলের দিকে
নৌকা বাইচ শুরু হলে তুমুল উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। একেকটি নৌকায় ৩৫-
৪০ জন মাঝি দাঁড় টেনে ছুটে চলেন নদীর বুক চিরে। মাঝিদের একসঙ্গে ঢাক-ঢোলের শব্দ আর
দর্শকদের করতালি মিলে কুমার নদ তখন উৎসবে পরিণত হয়।

এদিন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় মুকসুদপুর, কাশিয়ানী ও রাজৈর উপজেলার বেশ কয়েকটি দল।
প্রতিটি নৌকা ছিল রঙ-বেরঙের সাজে সজ্জিত। মাঝিরা দাঁড় টানার পাশাপাশি লোকগান
গেয়ে দর্শকদের মাতিয় রাখেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে ২টা ব্রিজ ও ২২টি এলএডি
টিভি, ৫ফান পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
উপস্থিত ছিলেন মুকসুদপুর উপজেলা দগনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোহম্মাদ আলী, উপজেলা
বিএনপির সহসভাপতি মাহাবুর রহমান হিরু মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান লিটু,
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হক তালুকদার, প্রমুখ । বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের
বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
নৌকা বাইচকে ঘিরে নদীর পাড়ে বসে ছোটখাটো মেলা। সেখানে মিষ্টি, ঝালমুড়ি, খেলনা,
গ্রামীণ হস্তশিল্পসহ নানা পণ্যের দোকান বসে। ফলে প্রতিযোগিতা ছাড়াও এলাকাজুড়ে সৃষ্টি
হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।


