জেলা প্রতিনিধি
পাবনার আতাইকুলায় বিএনপি নেতা রিপন হোসেন (৪০) এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুস সালামকে (৫০) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার আতাইকুলা থানা এলাকার পুষ্পপাড়া হাটের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে।
নিহত রিপন হোসেন আতাইকুলা থানা এলাকার ধর্মগ্রামের মৃত ওমেদ আলীর ছেলে এবং পাবনা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি এবং আব্দুস সালাম একই এলাকার মৃত আরজ আলী ব্যাপারীর ছেলে। আব্দুস সালাম পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার জাতীয় শ্রমিক লীগের সদর উপজেলার আহ্বায়ক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পুষ্পপাড়া হাটের খাজনা আদায় শেষে সন্ধ্যায় হাটের ইজারাদারের রুমে বসে মিটিং করছিলেন তারা। এ সময় কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে।
এতে তারা দুজন গুলিবিদ্ধ হন। এসময় দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হবে।
হাট ইজারাদার সালামের শরীরে দুটি বুলেট ও রিপনের শরীরে তিনটি বুলেটের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা রিপনের ছোট ভাই বলেন, ৮/১০ জনের একটি দল হাটের মধ্যে ইজারার ঘরে প্রবেশ করে তাদের গুলি করে হত্যা করে।
ঘটনার বিষয়ে জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু মরদেহ দেখতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, রিপন আমাদের দলীয় কর্মী ছিলেন। সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রীর পাবনায় আগমন উপলক্ষে তাকে দিয়ে ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি করেন।
এ ঘটনায় নিহত রিপন হোসেনের চাচাতো ভাই বলেন, সালাম ও রিপন দুজনেই পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার। প্রকাশ্যে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার দ্রুত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি করছি।
পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


