ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জারি করা রুল খারিজ করে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল।

তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করবো।’আদালতে আজ রিটের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ সাংবাদিকদের জানান, পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর প্রদেয় সংক্রান্ত এনবিআরের দাবির বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জারি করা রুলও খারিজ (ডিসচার্জ) করে দিয়েছেন আদালত।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর এনবিআর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকারও বেশি আয়কর চেয়ে নোটিশ জারি করবে।

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, তাঁর মক্কেল হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করবেন। তিনি আরও বলেন, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দিলে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করতে হবে না।২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত বিষয়ে রিট খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন। পরে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ ওই রায় প্রত্যাহার করে নেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।এ কারণে রায়টি প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। এরপর মামলাগুলো শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক, আইনের আওতায় আনতে হবে: রাষ্ট্রপতি
পরবর্তী নিবন্ধহাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু