গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আরেফিন মুক্তা: মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জ জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪ ঘটিকায় উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। মো: ছিরু মিয়ার সভাপতিত্বে এবং কাজী ওহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় মুকসুদপুরের ফরিদ মিয়া কমপ্লেক্সে অবস্থিত প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আলোচনা সভা, কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (EUB)-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকার আজীবন সদস্য এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অনুদান বোর্ডের সদস্য সাবরীনা বিনতে  আহমেদ শুভ্রা। প্রধান আলোচক ছিলেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির।প্রধান আলোচক ছিলেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন। মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, তিনি বলেন আমি আমার চাকরিজীবনে আমি অনেক দেশের সবযায়গায় চাকুরী করেছি এবং অফিসার ইনচার্জ হিসেবে ৩ যায়গায় চাকুরী করছি কিন্তু মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মতো এমন চৌকস,দায়িত্বশীল এবং বস্তুনিষ্ঠতার সাথে সংবাদ পরিবেশন আমি খুবই কমই দেখেছি পাশাপাশি তিনি মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাফল্য কামনা করেন।

মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং মো. ফরিদ আহমেদ মিয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছালাম খান। সাধারণ সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম রাজু, সরকারি মুকসুদপুর কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাহাবুব হাসান বাবর, মুকসুদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার টুল্টু বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু।বক্তব্য রাখেন সরকারি সাবের মিয়া জসিমুদ্দীন (এস.জে) মডেল উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র মন্ডল।

উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ূম শরীফ, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান বিপ্লব, সদস্য সচিব মো: কাইয়ুম মুন্সী,উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রহমান রইন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সিনি: সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান লেবু, যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। কাশবন সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক মিন্টু হক,পৌর ছাত্রদলের সভাপতি আশিক মুন্সী সহ আরোও বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুকসুদপুর প্রেসক্লাব বস্তুনিষ্ঠ, সাহসী ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। সমাজের নানা সমস্যা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা গণমাধ্যমে তুলে ধরে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

সরকারি মুকসুদপুর কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের  সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মানবজমিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি এবং সরকারি মুকসুদপুর কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মাহাবুব হাসান বাবর তার বক্তব্যে বলেন, এই মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক, আমার হাতেখড়ি হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠানে, এখানে যারা সাংবাদিকতা করছেন তারা সবাই চৌকস, মেধাবী। 

সভাপতির বক্তব্যে মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এ. কে. এম. সোহরাব-উন-নূর ছিরু মিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠার চার দশকে মুকসুদপুর প্রেসক্লাব পেশাদার, বস্তুনিষ্ঠ ও জনমুখী সাংবাদিকতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা এবং গণমানুষের কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রেসক্লাবের সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

 তিনি বলেন, পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশাগত ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রাখাই প্রেসক্লাবের অন্যতম অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে মুকসুদপুর প্রেসক্লাব কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথি সাবরীনা বিনতে আহমেদ বলেন, একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই গণতন্ত্র ও সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি। মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি ভবিষ্যতেও সত্য, ন্যায় ও পেশাগত নৈতিকতার প্রতি অবিচল থেকে সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।এর আগে প্রধান অতিথিকে বিশেষ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য সুমাইয়া নূর প্রভা এবং জান্নাতুল ফেরদৌস পাপড়ী।

প্রধান আলোচক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে গণমাধ্যম প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন।

তিনি ভবিষ্যতেও উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রেসক্লাবের গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হানা ইসলাম শোভন বলেন, সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। ভবিষ্যতেও তারা পেশাগত সততা ও নৈতিকতা বজায় রেখে জনস্বার্থে কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের চার দশকের পথচলার প্রশংসা করেন।

তারা বলেন, পেশাগত ঐক্য, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থে নির্ভীক অবস্থানের কারণে সংগঠনটি আজ একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তরুণ সাংবাদিকদের দক্ষতা ও নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চায় প্রেসক্লাব আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।আলোচনা সভা শেষে প্রেসক্লাবের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।

পরে উপস্থিত প্রধান অতিথি এবং প্রধান আলোচককে মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে সদস্য ও অতিথিদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনমুখী করার লক্ষ্যে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
পরবর্তী নিবন্ধকুয়েত–বাহরাইনের ‘আল-জাবের’ ও ‘শেখ ঈসা’ মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা