নিজস্ব প্রতিবেদক
এবার অধ্যক্ষের পদত্যাগসহ চারদফা দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনোমিক্স কলেজ) ছাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে কলেজের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি তুলে ধরেন।
এর আগে সকাল ১১টায় অধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য করে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রাত ১১টা নাগাদ পুলিশের সাহায্যে তিনি ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যান।
এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং একাধিক ছাত্রীর ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো তুলে ধরে আন্দোলনকারী চৈত্রী সাহানা বলেন, আগামীকাল ক্যাম্পাসে কোনো সরকারি পরীক্ষা হতে দেওয়া হবে না।
ক্যাম্পাসে কীভাবে পুলিশ প্রবেশ করল, কীভাবে ছাত্রীদের ফোন ছিনিয়ে নিল এবং লাঠিচার্জ করল, তার জবাব দিতে হবে এবং জড়িত পুলিশ সদস্যদের শোকজ করতে হবে। কলেজের অধ্যক্ষ লিখিত নথি না দেওয়া পর্যন্ত কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
একইসাথে যেসব শিক্ষক অধ্যক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তাদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।
এর আগে দুই শিক্ষার্থীকে সিট বাতিলের ঘটনায় অধ্যক্ষের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন শুরু করেন অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের ছাত্রীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর কলেজের একটি ফেস্ট অনুষ্ঠিত হয়, যেটি তারা সারারাত ধরে উপভোগ করেন। কিন্তু এবার অধ্যক্ষ শুরুতে রাত ১০টা পর্যন্ত এবং পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাত ১২টা পর্যন্ত আয়োজনের অনুমতি দেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ভোর ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি করেন।
পরে অধ্যক্ষ শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে দুজন শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করেন। শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ সাপেক্ষে সিট ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।


