নিজস্ব প্রতিবেদক
সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ ছুটি বিচারব্যবস্থার গতি ও মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ ছুটি কমানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ক্যালেন্ডার দেখলে বছরে ৩৬৫ দিনের প্রায় অর্ধেক সময় ছুটি দেখা যায়, অর্থাৎ লাল কালিতে চিহ্নিত।
সরকারি ছুটির পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব দীর্ঘ অবকাশ রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক থাকাকালে ছুটি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এই দীর্ঘ অবকাশের কারণে আমাদের বিচারব্যবস্থায় শ্লথগতি আসছে এবং মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয় যে দীর্ঘ অবকাশের মধ্যে অনেক বিচারপতি তাঁদের রায় বা অসমাপ্ত রায় লিখবেন। এই প্রত্যাশার জায়গাটিও পূরণ হচ্ছে না।
অনেকেই আছেন, যাঁরা এক মাসের মধ্যে একটি রায়ও লেখেননি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দীর্ঘ ছুটি পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। আমি আমার অবস্থান থেকে মনে করি, এই দীর্ঘ ছুটি বিচারব্যবস্থার গতি আনার ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। পাশাপাশি মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, আমি প্রত্যাশা করব, প্রধান বিচারপতি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন। কারণ, রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত ছুটির বাইরে যে অতিরিক্ত ছুটি, সেগুলোও সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ছুটি বলে পরিগণিত।
ছুটি কমিয়ে বিচারকদের আরও বেশি সময় কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে অনিষ্পন্ন মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন অনেকাংশে পূরণ হবে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।


