ছাতকের দক্ষিণ খুরমায় উঠান বৈঠকে জাহাঙ্গীর আলম

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ও প্রার্থিতার চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হওয়ার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের হলদিউরা গ্রামে উঠান বৈঠক করেছেন চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ও দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম।হলদিউরা গ্রামের আব্দুল হকের বাড়িতে আয়োজিত এ উঠান বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে কথা বলেন তিনি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি কারী নুরুল আমিন। ফয়সল আহমদ লোকমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন মৌলবী আব্দুর রুপ।রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নে স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন জনসংযোগকে নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। উঠান বৈঠকের মতো ছোট পরিসরের কর্মসূচিতে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যাগুলোও তুলে ধরছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এরই মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী তৎপরতা লক্ষণীয়। জনসমর্থন আদায়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।বৈঠকে জাহাঙ্গীর আলম তার বক্তব্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ, নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহায়তা, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নারী জাগরণে কাজ করার কথা তুলে ধরেন তিনি।জাহাঙ্গীর আলম ছাতক উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তার নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণও নতুন নয়। ২০১৬ সালের দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। এবারও চেয়ারম্যান পদে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমীকরণ কী দাঁড়াবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের তফসিল, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থানের ওপর। ফলে বর্তমানের জনসংযোগ ও উঠান বৈঠককে আপাতত প্রার্থীদের মাঠ গোছানোর কার্যক্রম হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।উঠান বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দারাও ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। বক্তব্য রাখেন হলদিউরা গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি সিরাজ উদ্দিন, আব্দুর রহিম, আব্দুল হক, মনফর আলী, আনিছ আলী, আব্দুল সোবহান, ফয়জুর রহমান, আজিজুর রহমান, মাসুক মিয়া, আব্দুল জাহির ও রিয়াদ মিয়া। এ ছাড়া চৌকা গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি ছুরত মিয়া, ফয়জুল ইসলাম, মৌলবী আব্দুর রুপ ও সেলিম মিয়া বক্তব্য দেন।বক্তাদের আলোচনায় স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। এসব সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা জানান তারা।বৈঠকে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেই তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা জানতে চান তিনি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন: নাহিদ ইসলাম
পরবর্তী নিবন্ধসবার আগে বাংলাদেশ গড়তে মানসম্মত শিক্ষার বাংলাদেশ হতে হবে