আয়াসসহ ৪ জনের ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগানোর ঘটনায় গ্রেফতার আয়াসসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, উসকানিদাতা এবং অর্থের জোগানদাতাদের খুঁজে বের করাসহ পাঁচটি কারণ দেখিয়ে আদালতে এ আবেদন করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার হিমেল ঢাকার মহানগর আদালতে এ আবেদন করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের সড়ক ও ফুটপাতের হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই এলাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের সীমানাপ্রাচীরে বিভিন্ন শিল্পকর্ম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে গ্রাফিতি আঁকা ছিল।

গত ৯ অক্টোবর ‘সংলাপ ফোরাম’-এর সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস গ্রাফিতিগুলো চুনকাম করে মুছে ফেলার ঘোষণা দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিল্পকলা একাডেমির ফটকের বিপরীত পাশের দেয়ালের কাছে চারজনকে একত্র হন। এ সময় আয়াসসহ অন্যরা বিভিন্ন বক্তব্য দেন এবং মারজিয়া খন্দকার রিমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আয়াস পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবর ও নামফলকের প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে রিমি ভারতীয় আগ্রাসন ও রবীন্দ্রনাথের জমিদারি নিয়ে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গ্রাফিতির ওপর কালো রং লাগান বলে দাবি পুলিশের।

মামলায় গ্রেফতার চারজন হলেন মো. সাকিবুস হাসান (১৯), আল নূর মোহাম্মদ আয়াস (২৭), মো. সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৬)। তাদের মধ্যে সাকিবুসের বাবার নাম হারমুজ আলী, আয়াসের বাবা মোস্তফা, সুজনের বাবা মুসলমান এবং রিমির বাবা মোস্তাক আহমেদ খন্দকার। তাদের স্থায়ী ঠিকানা যথাক্রমে শেরপুর, ময়মনসিংহ, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

রিমান্ড চাওয়ার পাঁচ কারণ
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে পাঁচটি কারণ দেখিয়ে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছেন। কারণগুলো হলো ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা। পলাতক ব্যক্তিদের পূর্ণ পরিচয় ও ঠিকানা সংগ্রহ করা। ঘটনার পেছনে উসকানিদাতা ও মদদদাতাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা। ঘটনার পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা বের করা। ঘটনার অর্থের জোগানদাতা এবং অর্থায়নের উৎস শনাক্ত করা।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন না। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে পুলিশের দাবি। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও কয়েকজন পালিয়ে যান বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচাঁদপুরে পপুলার লাইফের বীমা গ্রাহকের বীমা দাবীর৫ কোটি ২ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর
পরবর্তী নিবন্ধহাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৭৩