মুকসুদপুরে বাণিজ্যিকভাবে বেড়েছে পাটকাঠির ব্যবহার

দেলোয়ার হোসেন,স্টফ রিপোটার

এক সময় জ্বালানি আর বাড়িতে বেড়া দেওয়ার কাজে ব্যবহার হতো পাটকাঠি। এখন নানাবিধ
ব্যবহারের ফলে এর চাহিদা বেড়েছে। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠিতে বাড়িতি আয়ে চাষিদের
মুখে হাসি ফুটেছে।

এক সময়ের অবহেলিত পাটকাঠি এখন বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির আশির্বাদে
বহুক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে, দিন দিন এর কদর বাড়ছে। এতে করে শুধু পাট আঁশ নয়, পাটকাঠিতেও
কৃষকরা দেখছেন আশার আলো। সোনালি আঁশের সঙ্গে কদর বেড়েছে পাটকাঠিরও। বাড়ি, পাকা
সড়ক, মাঠ-ঘাট যতদূর চোখ যায় সেখানেই চোখে পড়ে পাটকাঠি শুকানো ও রক্ষণাবেক্ষণের
কাজ।


পাটকাঠি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় জ্বালানি, চারকোল ও পানের বরজ তৈরিতে। কৃষকরা
পাট বিক্রি করে যতটা লাভবান হচ্ছেন, তার সঙ্গে পাটখড়ি বিক্রি করেও কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার
চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া, বেশির ভাগ বাড়িতে জ্বালানি হিসেবে বেশ নাম-ডাক রয়েছে পাটখড়ির।

বেশ কিছু মানুষকে পাটখড়ি শহরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেও দেখা যায়।
গৃহিণী হালিমা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। পাটের মৌসুম আসলে আমাদের মতো
অনেক পরিবারে মুখে হাসি ফুটে। আষাঢ়ের শেষ দিকে পাট উঠতে শুরু করে, কার্তিক মাসে শেষ

এই চার মাস সপ্তাহে ছয়দিন আঁশ ছাড়ানো হয় সকালে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি পাটখড়ির আঁটি বেঁধে রোদে শুকাতে
দিয়েছেন কৃষকরা। ভালোমতো শুকিয়ে গেলে কৃষকদের বাড়ি থেকেই কিনে নিয়ে যান
ব্যবসায়ীরা। তারা পাটখড়ি কৃষকদের কাছ থেকে মোটামুটি দামে কিনে ভ্যানে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকেন।

এতে করে বাড়িতি আয় করছেন অনেকেই। বাড়ি-ঘর, সবজি ক্ষেতের
বেড়া, মাচা, পানের বরজ ও বিভিন্ন হস্তশিল্পভিত্তিক পণ্য তৈরির কাজে পাটখড়ির আলাদা ব্যবহার
লক্ষ্য করা যায় আগে থেকেই। কিন্তু বর্তমানে ব্যাপক হারে পার্টিকেল বোর্ড তৈরিতে ব্যবহার
করা হচ্ছে পাটখড়ি এবং চারকলগুলোতে ব্যাপকহারে ব্যবহার করা হচ্ছে পাটখড়ি।
উপজেলায় দিগনগর, গোবিন্দপুর, মহাজারপুর, পশারগাতী, কাটিকামারী বিভিন্ন এলাকায়
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাটচাষিরা পাটকাঠি আগের মতো অবহেলায় ফেলে না রেখে যত্ন করে
শুকিয়ে মাচা তৈরি করে রাখছেন বিক্রির জন্য। আবার অনেকেই এখন পাটকাঠির ব্যবসা করে
জীবিকা নির্বাহ করছেন।


স্থানীয়রা জানান, পাটকাঠি কোথাও আবার পাটখড়ি নামে পরিচিত। আগে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই
এটি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিছু ভালো মানের পাটকাঠি বিভিন্ন জেলায় পানের
বরজের আর ঘরের বেড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন আর মূল্যহীনভাবে পড়ে থাকে না
পাটকাঠি। কৃষকরা পাটের দাম ভালো না পেলেও পাটকাঠির দাম দিয়ে সেই ক্ষতি পুশিয়ে নেওয়ার
চেষ্টা করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসোনার দাম কমলো ভরিতে ৭ হাজার ১১৫ টাকা
পরবর্তী নিবন্ধনেপালের বন্যায় নিহত বেড়ে ৬১৬, নিখোঁজ ১৯২৪