নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাসের ভাড়া বাড়ছে। দূরপাল্লার বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৮ পয়সা এবং রাজধানীসহ শহরে ১০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রস্তাব ও অভিযোগের কথা জানান বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাসের ভাড়া দূরপাল্লায় প্রতি কিলোমিটার ৮ পয়সা, সিটি সার্ভিসের ১০ পয়সা প্রতি কিলোমিটার। লঞ্চের ভাড়া প্রতি নটিক্যাল মাইল ৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং রাজধানীসহ শহরে ১৮ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে ভাড়া কত বাড়বে, সে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। এরপর প্রজ্ঞাপন আকারে তা প্রকাশ করা হবে।
গত রোববার রাতে ডিজেল, পেট্রো্ল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। নতুন দর অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সোমবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।
সংগঠনটির অভিযোগ, জ্বালানির মূল্য বাড়লে বাস ও লঞ্চের ভাড়া বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিগত স্বৈরাচারের সময়কাল থেকে সরকারের সংশ্লিষ্টরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির একচেটিয়া সুবিধা বাস ও লঞ্চ মালিকদের পকেটে তুলে দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। তারা জনস্বার্থের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস ও লঞ্চ মালিকদের নিয়ে দফায় দফায় রুদ্ধধার বৈঠক করে। গণমাধ্যমের কাছে লুকোচুরি করে।
ভাড়া নির্ধারণ কেবলমাত্র মালিক সমিতি ও সরকার মিলে করলেও গণমাধ্যমে সব অংশীজনের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের কথা প্রচার মধ্যদিয়ে জায়েজ করে থাকে। অথচ দেশের বৃহত্তর অংশীজন যাত্রীসাধারণের প্রতিনিধিকে ভাড়া নির্ধারণের কোন বিষয়ে মতামত নেওয়া হয় না। কত টাকা তাদের পরিচালন ব্যয় বাড়লো, কত পয়সা ভাড়া ভাড়ালে তার সমন্বয় করা সম্ভব, তার কোন স্বচ্ছতা জাতির সামনে প্রকাশ করা হয় না। এভাবে বিগত স্বৈরাচারের সময়কাল থেকে পরিবহন মাফিয়াদের তোষামোদি করে আসছে সরকার। এতে দেশের সাধারণ মানুষ বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমন অভিযোগ সংগঠনটির।


