নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—তিনি দলীয় কেউ হবেন নাকি দলের বাইরের কোনো প্রতিনিধি হবেন, সে বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শনিবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের আলোকে দেশের সব নিয়ম-কানুন মেনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আসন্ন বৈঠকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শওকত রশিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ করে ধ্বংসের রাজনীতি, আর বিএনপি বিশ্বাস করে গড়ার রাজনীতিতে—এটাই মূলত বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য। আওয়ামী লীগ বিগত ১৭ বছরে পুরো দেশকে ধংসস্তূপে পরিণত করেছে এবং লুটপাট চালিয়েছে; বিএনপি আজ দেশ পরিচালনার নতুন দায়িত্ব নিয়ে সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে আবার নতুন করে গড়ে তুলছে।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং কৃষকদের প্রমিত ভাগ্যোন্নয়ন ও কৃষি প্রযুক্তির আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখতে নতুন ও কার্যকর বাজারজাতকরণ পরিকল্পনার ওপর বিশেষ তাগিদ দেন।
তিনি বলেন, পল্লী অঞ্চলের প্রকৃত উন্নয়ন করতে হলে শুধু রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করলেই চলবে না, সর্বাগ্রে আমাদের প্রান্তিক কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হবে। বর্তমানে দেশের প্রান্তিক চাষিরা দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি করেও উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। এর ফলে কৃষিকাজের প্রতি দিন দিন মানুষের একধরনের তীব্র অনীহা তৈরি হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
তিনি আরও যোগ করেন, উৎপাদিত কৃষিপণ্যের মাধ্যমে মূলত মধ্যস্বত্বভোগীরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই প্রতিকূলতা ও বৈষম্য দূর করতে হলে কৃষিজাত পণ্য সরাসরি বাজারজাতকরণের জন্য বাস্তবমুখী নতুন নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে নিবিড় গবেষণা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটিয়ে পুরো দেশকে অগ্রগতির পথে ধাবিত করতে হবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বগুড়া-৫ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আরডিএ-কে আরও কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন কৃষি খাতের ব্যাপক আধুনিকায়ন এবং উৎপাদিত শস্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সবার সমন্বিত যৌথ প্রচেষ্টার তাগিদ দেন।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএ-র ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামানিক।


