চেয়ারম্যানের চেয়ার নয়, ‘জনবান্ধব ইউনিয়ন’ গড়ার অঙ্গীকার মানিকের

নুর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ :

চেয়ারম্যানের চেয়ারের চেয়ে ইউনিয়নের মানুষের আস্থা অর্জনকেই বড় করে দেখছেন ছাতকের দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের তরুণ সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা আলী হোসেন মানিক।

এবারও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি সামনে এনেছেন উন্নয়ন ও জনকল্যাণের একটি পরিকল্পনার কথা। প্রচারপত্রে উঠে এসেছে- ন্যায়বিচার, তরুণ নেতৃত্ব, সামাজিক সম্প্রীতি, শিক্ষা, কৃষি, গ্রামীণ অবকাঠামো এবং প্রবীণ-প্রতিবন্ধীদের কল্যাণের মতো বিষয়।আলী হোসেন মানিকের রাজনৈতিক পরিচয়ও দীর্ঘদিনের।

তিনি ছাতক উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন বলে তার সমর্থকদের দাবি।তবে এবার তার রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ‘কেমন ইউনিয়ন চান’- সে প্রশ্নের উত্তর।

ভোট চাওয়ার পাশাপাশি তিনি যে বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তাতে স্থানীয় সরকারকে শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।তার পরিকল্পনার তালিকায় রয়েছে- ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, তরুণ ও আধুনিক নেতৃত্বের বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের কল্যাণ এবং কৃষক-কৃষির উন্নয়ন।বিশেষ করে কৃষিনির্ভর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তরুণদের নেতৃত্বে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তার অনুসারীরা।

তাদের মতে, ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় কৃষক, তরুণ, শিক্ষার্থী, প্রবীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হলে বাস্তবসম্মত উন্নয়ন সম্ভব।আলী হোসেন মানিক বলেন, আমি শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য মানুষের কাছে যেতে চাই না।

দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নকে কীভাবে আরও সুন্দর, আধুনিক ও জনবান্ধব করা যায়- সেই পরিকল্পনা নিয়েই মানুষের কাছে যাচ্ছি। জনগণ আমাকে সুযোগ দিলে দল-মত ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সবার জন্য কাজ করতে চাই।

তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সম্প্রীতি ছাড়া কোনো এলাকার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে কৃষক, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য ইউনিয়ন পরিষদকে আরও কার্যকর করতে হবে।স্থানীয় রাজনীতিতে তরুণ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন আলী হোসেন মানিকের প্রার্থিতা ঘোষণাকে দক্ষিণ খুরমায় নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

তবে তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে ভোটের সমর্থনে রূপ দেওয়া এবং ঘোষিত পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবসম্মতভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এখন আর শুধু প্রার্থী ও প্রতীকের প্রতিযোগিতা নয়।

কে মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য, কে বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা দিতে পারেন এবং কে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন- সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মানিকের প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই প্রতিযোগিতারই একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ১০৯৭, মৃত্যু ৩
পরবর্তী নিবন্ধআজ সর্বোচ্চ লোডশেডিং ঢাকায়, অন্যান্য জোনেও আছে দুঃসংবাদ